Bangladesh News24

সব

এ দেশে রোহিঙ্গা ভূমির আশঙ্কা কি অমূলক

মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের অধিবাসী রোহিঙ্গাদের ওপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন। শুরু হয়েছে বর্মি সামরিক শাসকদের আমলে। এখন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের চোখের মণি ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ বলে কথিত অং সান সু চির শাসনামলে তা আরো বেড়ে চলেছে। ঢেউয়ের মতো থেকে থেকে চলছে বাংলাদেশে আর্ত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ। বিশ্বগণতন্ত্র এ বিষয়ে বড় একটা নড়েচড়ে বসছে না।

এই অনুপ্রবেশের প্রথম পর্বে বাংলাদেশ মানবিক চেতনার তাগিদে তাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছিল চট্টগ্রাম সীমান্তে বসবাসের ব্যবস্থা করে। তারা আর ফিরে যায়নি। বরং তারা এ আশ্রয়দানের মর্যাদা রাখেনি। জড়িয়ে পড়েছে নানা ধরনের অনৈতিক, অবৈধ, অসামাজিক ও সাম্রাজ্যবাদী কূট চক্রান্তের বেড়াজালে। চট্টগ্রামের গভীর অরণ্যে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণের আলামত। তারা নানা সামাজিক অপরাধের সঙ্গেও জড়িত।

এককথায় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। এ ছাড়া তাদের অংশ নিতে দেখা গেছে রামুর বৌদ্ধপল্লীতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। ঘনবসতির ভূখণ্ড বাংলাদেশে তারা অনভিপ্রেত সমস্যা তৈরি করে চলেছে। এরপর একাধিক পর্বে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নর-নারী-শিশুদের বাংলাদেশে প্রবেশ। এবার বাংলাদেশ হুঁশিয়ার। তারা সেই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে দেশের কোনো কোনো মহলে ও বৈশ্বিক পরিসরে সমালোচনা আর্তমানবতার পক্ষ নিয়ে।

তারা বাংলাদেশের সমস্যার দিকে তাকাচ্ছে না। এমনকি জাতিসংঘও নয়। সবাই এখন গণতন্ত্রী সু চির দিকে তাকিয়ে। সু চির হাত ধরে যে সমস্যার সমাধান হবে না, সে কথা আমরা একাধিকবার লিখেছি। না হওয়ার প্রধান কারণ সু চি সাচ্চা গণতন্ত্রী নন তাঁর বাবার মতো। তিনি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের লালিত কন্যা, তাদের স্বার্থের দোসর। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সু চির স্বদেশে ফেরা এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় আসীন হওয়া।

ক্ষমতায় বসে রাখাইন সমস্যা, সে অঞ্চলে রোহিঙ্গাবিরোধী দাঙ্গা প্রভৃতি সমস্যা নিয়ে প্রথম দিকে তিনি নীরব। পরে যখন মুখ খুলেছেন তখন তাঁর বক্তব্য নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে যায়নি। ফলে রাখাইন অঞ্চলে নিয়মিত চলেছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। তাতে রয়েছে শাসনযন্ত্রের পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা। সমর্থন সেনা সদস্যদেরও। ওদের লক্ষ্য রাখাইন অঞ্চল রোহিঙ্গাশূন্য করা। প্রমাণ মিলছে যে সু চি রাজনৈতিক বিচারে কট্টর জাতীয়তাবাদী। নামে গণতন্ত্রের মুখোশ আঁটা মুখে।

দুই.

বিস্ময়কর যে এ বিষয়ে বিশ্বমোড়লদের কোনো ধরনের মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশ সরকার এ সম্পর্কে যথারীতি সংরক্ষণবাদী নীতি নিয়ে চলছে, যাতে ব্যাপক হারে এ দেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে। কিন্তু এর আগে এত লেখালেখির পরও তারা রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যায়নি। ফলে ভুগতে হচ্ছে তাদের। ভুগছে বাংলাদেশের সুস্থ চেতনার সমাজ।

সম্প্রতি আবারও শুরু হয়েছে মিয়ানমারে সহিংসতা। একটি দৈনিকের খবরে প্রকাশ, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৮৯ জন। ওই খবরের শিরোনাম : ‘বাংলাদেশে ফের রোহিঙ্গার ঢল’। টেকনাফ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সীমান্তের ওপারে সেই রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ। এর পরই রোহিঙ্গাদের দলে দলে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা। বাধা দিচ্ছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সরকারি বাহিনীরও মদদ রয়েছে। এ ঘটনা ২৭ আগস্টের। পরদিনের একটি দৈনিকে আরেকটি উদ্বেগজনক খবর ‘কঠোর পাহারার মধ্যেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, সীমান্তে গুলি’। তা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের একাধিক সীমান্ত দিয়ে নৌকাযোগে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ চলছেই। জানমাল বাঁচাতে মানুষ সাধারণত বেপরোয়া হয়ে থাকে। হচ্ছে রোহিঙ্গারা।

ফলে টেকনাফ থেকে ব্যাপক সাগর সীমান্তজুড়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উদ্বিগ্ন, সতর্ক স্থানীয় প্রশাসন। পাহারা বাড়াচ্ছে কোস্ট গার্ড ও বিজিবি। চলছে দফায় দফায় বৈঠক। কিন্তু অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। সীমান্তের জঙ্গল শরণার্থীদের প্রথম আশ্রয়, সেখান থেকে সুবিধা বুঝে স্থায়ী আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা রোহিঙ্গাদের।

অনেকে হয়তো মানবিকতার প্রশ্ন তুলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে কথা বলবেন। বলেছেনও কেউ কেউ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমস্যা নিয়েও তো ভাবতে হবে। মিয়ানমার সরকার নিয়মিত তার নাগরিকদের ওপর ধর্মভেদের কারণে নির্যাতন, হত্যা চালিয়ে যাবে নির্বিবাদে, বিশ্বজনমত নির্বিকার থাকবে, পরাশক্তি নীরব থাকার কূটনীতি অবলম্বন করবে—এমন অন্যায়-অনাচার তো চলতে পারে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও চরম ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এ সমস্যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করবে। কারণ রোহিঙ্গা সমাজ যথেষ্ট মাত্রায় রক্ষণশীল এবং তা সব দিক থেকেই। তাদের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশি সমাজের একাংশে।

এ ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে সামাজিক সমস্যা। তা ছাড়া তাদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমস্যারও উদ্ভব ঘটছে। যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ তত্পরতায়, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরে সাম্রাজ্যবাদী তত্পরতায়। এককথায় বাংলাদেশের জন্য তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিতিশীলতা এবং তা শরণার্থী রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে। তাদের দারিদ্র্র্য, তাদের অসহায়তাও এসব সমস্যার উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তিন.

তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি এ দেশের সংবাদপত্রে খবরের শিরোনামে লেখা হয় : ‘গলার কাঁটা রোহিঙ্গা’। বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বিচিত্র কর্মকাণ্ডই এজাতীয় শিরোনামের কারণ। বাংলাদেশ সরকার বোধ হয় এত দিনে বুঝতে পারছে যে রোহিঙ্গারা বাস্তবিকই এ দেশের জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি করে চলেছে। তাই সু চির ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বাংলাদেশ তরফে চেষ্টা চলছে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে যাওয়া নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের।

কিন্তু সু চি সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন। বস্তুত আরাকান তথা রাখাইনবাসী রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া দূরে থাক, তাদের অত্যাচারে কিছুদিন পর পর রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকে বসবাস শুরু করছে। কোনো বাধাই মানছে না। এটাই হচ্ছে মিয়ানমার সরকার। সু চির এ আচরণ রাজনৈতিক বিচারে অনেকটাই একাত্তরের পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মতো। যেমন—পূর্ববঙ্গ থেকে হিন্দু বিতাড়ন। এ নীতি পূর্বাপর পাকিস্তান সরকারের।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ সম্পর্কে সংবাদপত্রের ভাষ্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, ‘মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এখন বিষফোড়ার মতো হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গারা ছলে-বলে-কৌশলে ভোটার তালিকাভুক্ত হচ্ছে। অনেকে ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধনও জোগাড় করে নিচ্ছে। নানাভাবে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

এ অবস্থা চলতে থাকলে চট্টগ্রামের অঞ্চল বিশেষ রোহিঙ্গা নামক নতুন জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হয়ে দাঁড়াবে। আর এ বাস্তব পরিস্থিতিতে রাখাইনে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা উৎসাহ বোধ করবে চট্টগ্রামের সীমান্ত এলাকায় পাড়ি জমাতে। বাংলাদেশে গড়ে উঠবে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর রোহিঙ্গা ভূমি বা রোহিঙ্গা প্রদেশ। এ আশঙ্কা কি বাংলাদেশের জন্য শুভ সংকেত? এ অবস্থার সৃষ্টি হলে দূর ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার স্বাধীনতা আন্দোলন বা অন্তত স্বাধিকার আন্দোলন দেখা দিতে পারে।

এ বিপত্সংকেত কি লক্ষ করছে বাংলাদেশ সরকার? করে থাকলে ভাবছে কি প্রতিরোধ বা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়ার কথা? কিন্তু তেমন কিছু নজরে পড়ছে না। এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে আরো বিপজ্জনক ঘটনা, দুর্নীতিতে ওস্তাদ কিছুসংখ্যক স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি বা কর্মকর্তা দেশের কথা না ভেবে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে জাতীয়তা সনদ দিতে শুরু করেছে। জনৈক স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে পূর্বোক্ত শিরোনামের প্রতিবেদনে।

বলতে হয় অশনিসংকেত এসব ঘটনায়। প্রান্তিক অঞ্চলে সংঘটিত স্বদেশবিরোধী এসব ঘটনার কে খোঁজ রাখে? কে-ইবা দেখে কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন। দেশের শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে কর্মরত সবাই যে দুর্নীতিমুক্ত স্বদেশপ্রেমী হবেন—এমন তো কোনো কথা নেই। তা ছাড়া আছে দলগত মতভেদ, সে সুযোগ নিচ্ছে দুর্নীতিপরায়ণ, অনৈতিক চেতনার রোহিঙ্গারা। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের জন্য সমস্যা ডেকে আনবে।

অবস্থাদৃষ্টে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে নানা মাত্রিক বিচারে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির মোকাবেলায় তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘস্থায়ী নীতি গ্রহণ করে। এবং তা প্রয়োগে সর্বাত্মক শক্তি ব্যবহার করে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো যে দুর্নীতি, অনৈতিকতা, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়া, সে কথা সরকারের অজানা থাকার কথা নয়।

তাই দরকার আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে রোহিঙ্গা সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এবং ক্রমাগত জড়িয়ে যাচ্ছে সামাজিক-রাজনৈতিক মূল্যবোধের বিষয়াদি। সর্বোপরি তা বাংলাদেশের রাষ্ট্রনৈতিক সামাজিক স্বার্থের বিরোধী। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। তাই অপরিহার্য সরকারের দিক থেকে আশু হস্তক্ষেপ, তা না হলে ভবিষ্যতে তা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। তখন কিছুই করার থাকবে না।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

image-id-663299

উন্নয়নের অন্তরায় দুর্নীতি

image-id-663296

আদর্শহীন রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী

image-id-662710

তিনি কি ভয় পেয়ে গেলেন

image-id-662704

সরব সবুজে নীরব কর্মী

পাঠকের মতামত...
image-id-662320

শিক্ষক এবং শিক্ষকতা

ছোট শিশুদের স্কুল দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই...
image-id-662008

স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র নিয়ে যথেষ্ট জটিলতা

পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী ও সমাজতন্ত্রী উভয়ে উপদ্রুত জাতিসত্তার...
image-id-661460

তৃতীয় ধারার জোট গঠনে সব বাধাই অরাজনৈতিক

বিশাল জনসমর্থিত দল না হলেও রাজনীতিসচেতন সাধারণ মানুষের কাছে কোনো...
image-id-661457

মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ইইউ-মার্কিন বিধি-নিষেধ

মিয়ানমারের ওপর, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বিধি-নিষেধ...
image-id-663597

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা

তিন মাস পর সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের...
image-id-663592

ফিফার বর্ষসেরা একাদশে রিয়ালের ৫, বার্সার ৩

সোমবার রাতেই ঘোষণা করা হবে বেস্ট ফিফা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীর নাম।...
image-id-663588

স্তন কেটে, ধর্ষণের পর লজ্জাস্থানে কাঠ গুঁজে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতন

আগস্ট থেকে অক্টোবর। পেরিয়ে গেছে দু’মাস। এরপরও মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিম...
image-id-663585

তারকাদের সত্য-মিথ্যা ১৩ সেক্স স্ক্যান্ডাল

হলিউড তারকাদের জীবনে ‘স্ক্যান্ডাল’ নিত্যদিনের ঘটনা। বলিউডেও এরকম স্ক্যান্ডাল নিয়ে...
© Copyright Bangladesh News24 2008 - 2017
Published by bdnews24us.com
Email: info@bdnews24us.com / domainhosting24@gmail.com