Bangladesh News24

সব

মগের মুল্লুকে পদদলিত মানবতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয়

মো. জাকির হোসেন

নাফ নদের এপারের মানুষ কোরবানির পশুর গলার রশি ধরে টানছে, ওপারে আদম সন্তানের গলায় রশি লাগিয়ে টানছে মগ জলদস্যুদের বংশধর বুদ্ধের অনুসারী দাবিদাররা। গলায় দড়ি বাঁধা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ করজোড়ে, পা জড়িয়ে ধরে জীবন আর মর্যাদা ভিক্ষা চাইছে আরেক আদম সন্তানের কাছে। মানবতার কী ভয়ংকর অবমাননা! এপারের মানুষগুলো সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টিবিধানের জন্য গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া জবাই করছে, ওপারের মগরা আদম সন্তানকে জবাই করছে অবলীলায়। বুদ্ধ তো বলেছেন, জীব হত্যা মহাপাপ; তাহলে কার সন্তুষ্টির জন্য রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে জবাই করা? এপারের মানুষ মৃত পশুর মস্তক কর্তন করছে, ওপারে জীবিত মানুষের মস্তক ধড় থেকে আলাদা করা হচ্ছে। দেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে। এপারের মানুষ পশুর মাংসকে ঝলসে কাবাব, বার-বি-কিউ করে খাদ্যের রেসিপি তৈরি করছে, ওপারে জীবন্ত নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধকে বার-বি-কিউ করা হচ্ছে নারকীয় উল্লাসে। এপারের মানুষগুলো ঈদ আনন্দ করছে, ওপারে ধর্ষিত রোহিঙ্গা নারীর আর্তচিৎকারে মগের মুল্লুকের আকাশ-বাতাস-নদী-সাগর বেদনায় নীলকণ্ঠ হয়ে উঠেছে। বুদ্ধের শাশ্বত দর্শন—পৃথিবীর সব প্রাণী সুখী হোক। খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে কিভাবে সুখ নিশ্চিত হতে পারে? ‘অহিংসা পরম ধর্ম’—বুদ্ধের এই অমিয় বাণীর সঙ্গে পৈশাচিকতা কিভাবে হাত ধরাধরি করে চলতে পারে?

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সীমান্তচৌকিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন এ বর্বরতার শুরু। মিয়ানমারে নিরাপত্তা বহিনীর ওপর মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন যে হামলা হচ্ছে তাকে রোহিঙ্গারা বলছে স্বাধীনতার আন্দোলন, আর মিয়ানমার সরকার বলছে এটি জঙ্গি হামলা। মিয়ানমার সরকারের বক্তব্যই যদি সত্য ধরে নিই তাহলেও কিছু প্রশ্নের উত্তর নেই।
এক. পৃথিবীর নানা প্রান্তেই তো নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের ওপর জঙ্গি হামলা হচ্ছে, কিন্তু কোথাও তো জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের নামে নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের ওপর এমন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, বর্বরতা পরিলক্ষিত হয় না। মিয়ানমার নামের মগদের মুল্লুকে কেন এমন হচ্ছে? পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জঙ্গি হামলার কারণে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন হেট ক্রাইম সংঘটিত হলেও রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ-প্রতিকার করেছে। হেট ক্রাইমের অপরাধীদের আটক করে বিচারে সোপর্দ করা হয়েছে। কিন্তু জঙ্গি হামলার অজুহাতে রাষ্ট্রীয় মদদে আশ্বিন ভিরাথু নামের এক ভিক্ষুর নেতৃত্বে তথাকথিত ‘নাইন সিক্স নাইন’ আন্দোলনের নামে জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ার যে বর্বর কার্যকলাপ শুরু হয়েছে পৃথিবীর কোথাও এর সাক্ষাত্ মেলে না। দুই. কোনো দেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হলে সমাজের অন্যরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। নিপীড়ন, সহিংসতাকে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি প্রতিবাদী সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন হয়। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সরব উপস্থিতি ও প্রতিবাদী ভূমিকা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু মগের মুল্লুক মিয়ানমারের ডিকশনারিতে এসব নেই। এদিকে মগদের পৌনঃপৌনিক বর্ববরতা সত্ত্বেও শান্তির নোবেল রানির অস্বাভাবিক নির্লিপ্ততা একদিকে নবোদ্যমে রোহিঙ্গা নির্যাতনকে উৎসাহিত করছে, অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত বর্বরতাকে বারবার অস্বীকার করে শান্তিতে তাঁর নোবেল প্রাপ্তিই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। মিয়ানমারের সবাই কেন ভয়ংকর বর্বরতা জেনেও কুলুপ আঁটা? তিন. একটি স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, পলায়নপর নারী-শিশুদের ওপর নির্বিচারে গুলি কোনোভাবেই কি গ্রহণযোগ্য? মিয়ানমারে কেন নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংসতা, বর্বরতা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ?

ওপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। স্বাধীন রাজ্য আরাকানে ২০০ বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে ১৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে। সেখান থেকেই শুরু আরাকানি মুসলমান তথা রোহিঙ্গাদের ভাগ্যবিপর্যয়ের। এরপর ১৭৮৪ সালে আরাকান স্বাধীনতা হারায়। বর্মি রাজা বোধাপোয়া আরাকান দখল করে নেন। ঘোর মুসলিমবিরোধী রাজা বোধাপোয়াও অসংখ্য মুসলমানকে হত্যা করেন। ১৮২৫ সালে ব্রিটিশরা বার্মা অধিকার করলে আরাকান বার্মার একটি প্রদেশ হিসেবে ব্রিটিশ শাসনের অধিকারভুক্ত হয়। বার্মায় ব্রিটিশ শাসনের অব্যবহিত পরেই ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব অঙ্কুরিত হতে থাকে। ১৯০৬ সালে রেঙ্গুন কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্রিটিশবিরোধী ইয়াং মেনস বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীকালে এটি জেনারেল কাউন্সিল অব বার্মিজ অ্যাসোসিয়েশন (জিসিবিএ) নাম ধারণ করে। জিসিবিএর পাশাপাশি বর্মি বিশুদ্ধবাদিতার স্লোগান তুলে ‘দো বা মা’ (আমাদের বর্মি সংগঠন) নামে আরো একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। এরা নিজেদের থাকিন (মাস্টার) বলে পরিচয় দিতে থাকে। থাকিনরা বিদেশি খেদাও আন্দোলনের নামে মিয়ানমারে বসবাসরত ভারতীয়দের বিরুদ্ধে প্রচারণার সূচনা করে সারা বার্মায় তা ছড়িয়ে দেয়। ভারতীয়বিরোধী মনোভাবের এই ঢেউ আরাকানেও এসে পৌঁছে। শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় আরাকানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদেরও দুর্ভাগ্যবশত ভারতীয় হিসেবে পরিগণিত করা হয়। থাকিনদের নেতা অং সান সু চির বাবা অং সান বার্মার স্বাধীনতার লক্ষ্যে বর্মিদের সংগঠিত করতে থাকেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হলে অং সান জাপান চলে যান এবং জাপানের সহায়তায় স্বাধীনতা লাভের উদ্দেশ্যে সেখানে বার্মিজ ইনডিপেনডেন্ট আর্মি (বিআইএ) গঠন করেন। ১৯৪২ সালে আকিয়াবে জাপানি আক্রমণ শুরু হলে ব্রিটিশরা আকিয়াব ত্যাগ করে, আর এ সুযোগে থাকিনরা আরাকানকে রোহিঙ্গামুক্ত করার পরিকল্পনা আঁটে। তারা নির্দেশ দেয়, যেসব মুসলমানের অবয়ব রাখাইনদের মতো নয়, বাঙালিদের মতো, তাদের অবিলম্বে আরাকান ত্যাগ করতে হবে। ১৯৪২ সালের ২৮ মার্চ বিআইএর নেতৃত্বে আরাকানি থাকিনরা নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে বহু রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করা হয়, গ্রামের পর গ্রাম আগুন জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়, অসংখ্য নারী ধর্ষণের শিকার হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে অং সান জাপানের সহায়তায় বার্মার স্বাধীনতার লক্ষ্যে যে বিআইএ গঠন করেছিলেন তাতে বার্মিজ ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী ব্যাপক সাড়া দিলেও রোহিঙ্গারা ইংরেজদের সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছিল। এ বিষয়টি বার্মিজ ও রাখাইনদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে। কিন্তু মিত্রশক্তি যুদ্ধে জয়লাভ করতে যাচ্ছে অনুধাবন করে অং সান জাপানের পক্ষ বদল করে ব্রিটিশদের পক্ষ অবলম্বন করেন। এ সময় অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট পিপলস ফ্রিডম লীগ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে রোহিঙ্গাদের মতো তিনিও মিত্রশক্তি ইংরেজদের সমর্থন দেন। যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতার প্রশ্নে অং সানের সঙ্গে ব্রিটিশদের আলোচনা শুরু হয়। বার্মায় বর্মি ছাড়াও শান, কাচিন, চীন, কারেন ইত্যাদি আরো বহু জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রয়েছে। ফলে অং সানকে বর্মি বিশুদ্ধবাদিতার থাকিন আন্দোলনের সঙ্গে আপস করে অন্য জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গেও সমঝোতায় আসতে হয়। কিন্তু আরাকানি রাখাইনদের প্রবল বিরোধিতার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বাধীন বার্মায় রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নিশ্চিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে জেনে রোহিঙ্গাদের একটি দল মুসলিম লীগ নেতা জিন্নাহর সঙ্গে দেখা করে মুসলিম অধ্যুষিত উত্তর আরাকানকে পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করে। কিন্তু অং সান জিন্নাহকে আশ্বস্ত করেন যে স্বাধীন বার্মা সব মুসলমানের প্রতি সাংবিধানিকভাবে সমতা ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করবে। ফলে জিন্নাহ এ বিষয়ে আর কোনো আগ্রহ দেখাননি। অং সান মোটামুটি ন্যায্যতার ভিত্তিতেই রোহিঙ্গা ইস্যুটি সমাধানের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। কিন্তু বার্মার স্বাধীনতা লাভের আগেই তাঁর মৃত্যু হলে বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীনতা লাভ করে এবং অং সানের মৃত্যুজনিত কারণে উ নু বার্মার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। যেমন অনুমান করা হয়েছিল, বার্মা স্বাধীনতা লাভের পরও রোহিঙ্গদের ভাগ্যবিড়ম্বনার শেষ হয়নি। বার্মার স্বাধীনতা লাভের সময় শান, কারেন, মন, চীন, কাচিন ইত্যাদি জাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের জনগণ স্ব স্ব জাতির জন্য আলাদ স্টেট বা রাজ্য লাভ করলেও আরাকান স্টেটের মর্যদা পায়নি, বরং এটিকে আরাকান ডিভিশন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সব কিছু ভেস্তে যায় ১৯৬২ সালে, যখন জেনারেল নে উইন ক্ষমতা দখল করেন এবং দেশে সামরিক আইন জারি করেন। জান্তা সরকার ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বও বাতিল করে দেয়। এই বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী বার্মায় তিন ধরনের নাগরিকত্ব স্বীকার করা হয়—এক. যেসব জাতিসত্তা ১৮২৩ সালের আগে থেকে বার্মায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে, সেই জাতিসত্তার সব মানুষ বার্মার পূর্ণ নাগরিক। দুই. যারা ১৮২৩ সালের পর বার্মায় এসেছে, কিন্তু ১৯৪৮ সালের সিটিজেন অ্যাক্ট অনুযায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেছে, তারা সহযোগী নাগরিক। তিন. যারা সহযোগী নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারেনি, তারা ন্যাচারালাইজড নাগরিক। নতুনভাবে আবেদন করে তারা অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত হতে পারবে বলে নতুন আইনে উল্লেখ করা হয়। নাগরিকত্ব প্রদানের সব ক্ষমতা জান্তা সরকারের কাউন্সিল অব স্টেটসের কাছে দেওয়া হয়। কাউন্সিল অব স্টেটস সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে রোহিঙ্গারা ১৮২৩ সালের পরে বার্মায় আগমন করেছে। সুতরাং রোহিঙ্গা যেমন কোনো জাতিসত্তা নয়, তারা বার্মার নাগরিকও নয়। যদি ধরেও নিই রোহিঙ্গারা নাগরিক না হওয়ায় মিয়ানমারে তারা রাষ্ট্রহীন, তাহলেও কি নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা যেতে পারে? জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি রাষ্ট্রহীন মানুষ বাস করে। তারা তো রোহিঙ্গাদের মতো বর্বরতা ও নৃশংসতার শিকার হয় না। তাহলে মিয়ানমারে রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গাদের ওপর কেন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই মনে করেন, বার্মিজরা ঐতিহাসিকভাবেই বর্বর, নিষ্ঠুর। মানুষের গলায় দড়ি বাঁধা, হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া রাখাইনদের পুরনো অভ্যাস। ‘ইস্ট ইন্ডিয়া ক্রোনিকলস’ থেকে জানা যায়, ১৭১৮ সালে বার্মার রাখাইন রাজা দক্ষিণবঙ্গ তছনছ করে অন্তত এক হাজার ৮০০ জন সাধারণ অধিবাসীকে ধরে নিয়ে যান। বন্দিদের রাজার সামনে হাজির করা হলে রাখাইন রাজা সেখান থেকে বেছে বেছে এক দলকে তাঁর নিজের দাস বানান, আর অবশিষ্টদের গলায় দড়ি বেঁধে ক্রীতদাস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দেন। আগের আরাকান বর্তমান রাখাইন প্রদেশে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস, দক্ষিণে বার্মিজ বংশোদ্ভূত ‘মগ’ ও উত্তরে মিশ্র বংশোদ্ভূত ‘রোহিঙ্গা’। মগের মুল্লুক বলতে জোর যার মুল্লুক তার, অরাজকতা ও দস্যুপনার যে কথা বাংলায় প্রচলিত, মিয়ানমারের মগদের বর্বরতা ও দস্যুপনা থেকেই তার উৎপত্তি। মগ দস্যুরা এতটাই বর্বর ছিল যে হত্যা, লুণ্ঠন শেষে গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দিত, মানুষদের ধরে নিয়ে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত। বাঙালি দাস বিক্রির একাধিক বাজার ছিল বার্মায়।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীতে মগ বর্বরতার পুনর্জাগরণ হবে আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে নপুংসক ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ও ধ্বজাধারী জাতিসংঘ আবেদন-নিবেদন আর উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যে তাদের দায়িত্ব শেষ করবে—এটি হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুধাবন করতে হবে, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা যে ভয়ংকর রূপ পরিগ্রহ করেছে তা বন্ধ করতে হলে মিয়ানমারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং মিয়নমারের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে রাজি না হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে রোহিঙ্গাদের আরাকানিজ নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করাও অত্যাবশ্যক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ মুহূর্তে ব্যবস্থা না নিলে সামনে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

zhossain@justice.com

image-id-663299

উন্নয়নের অন্তরায় দুর্নীতি

image-id-663296

আদর্শহীন রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী

image-id-662710

তিনি কি ভয় পেয়ে গেলেন

image-id-662704

সরব সবুজে নীরব কর্মী

পাঠকের মতামত...
image-id-662320

শিক্ষক এবং শিক্ষকতা

ছোট শিশুদের স্কুল দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই...
image-id-662008

স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র নিয়ে যথেষ্ট জটিলতা

পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী ও সমাজতন্ত্রী উভয়ে উপদ্রুত জাতিসত্তার...
image-id-661460

তৃতীয় ধারার জোট গঠনে সব বাধাই অরাজনৈতিক

বিশাল জনসমর্থিত দল না হলেও রাজনীতিসচেতন সাধারণ মানুষের কাছে কোনো...
image-id-661457

মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ইইউ-মার্কিন বিধি-নিষেধ

মিয়ানমারের ওপর, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বিধি-নিষেধ...
image-id-663597

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা

তিন মাস পর সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের...
image-id-663592

ফিফার বর্ষসেরা একাদশে রিয়ালের ৫, বার্সার ৩

সোমবার রাতেই ঘোষণা করা হবে বেস্ট ফিফা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীর নাম।...
image-id-663588

স্তন কেটে, ধর্ষণের পর লজ্জাস্থানে কাঠ গুঁজে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতন

আগস্ট থেকে অক্টোবর। পেরিয়ে গেছে দু’মাস। এরপরও মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিম...
image-id-663585

তারকাদের সত্য-মিথ্যা ১৩ সেক্স স্ক্যান্ডাল

হলিউড তারকাদের জীবনে ‘স্ক্যান্ডাল’ নিত্যদিনের ঘটনা। বলিউডেও এরকম স্ক্যান্ডাল নিয়ে...
© Copyright Bangladesh News24 2008 - 2017
Published by bdnews24us.com
Email: info@bdnews24us.com / domainhosting24@gmail.com