Bangladesh News24

সব

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ান

গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্ট ও সেনাক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পর সেখানে পাল্টা সেনা অভিযানের মুখে দেশ ছাড়তে থাকে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। জাতিসংঘের হিসাবে বুধবার পর্যন্ত এ দফায় প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। আরো অনেক রোহিঙ্গা নর-নারী বাংলাদেশে পাড়ি জমানোর অপেক্ষায়। এ সমস্যা সমাধানের উপায় কী, তা আমরা জানতে চেয়েছিলাম আমাদের পাঠকদের কাছে। টেলিফোন ও ই-মেইলে পাওয়া মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

► মিয়ানমার বর্তমান পৃথিবীর একটি বর্বরতম দেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে অমানবিক আচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে, তাতে সুস্পষ্টই বলা যায় সেটি নরপশুর দেশ। পশুর যেমন কোনো বিবেক থাকে না, তেমনি মিয়ানমার দেশের কোনো বিবেক নেই। যে দেশ মানবজাতির প্রতি সদাচরণ করতে পারে না, সে দেশকে প্রতিহত করা দরকার। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীকে যেভাবে নির্বিচারে গুলি, জখম, ধর্ষণ ও প্রতিহত করা হচ্ছে, তা দেখে কোনো মানব নিশ্চুপ থাকতে পারে না। জাতি ভেদাভেদে যে দেশ বিশ্বাসী, সে দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে থাকার যোগ্য নয়। মানবতাহীন ওই দেশকে রুখতে বিশ্ববিবেককে জাগতে হবে।
পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে লড়তে হবে।

মো. আজিনুর রহমান লিমন

চাপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

► রোহিঙ্গা সমস্যা উভয় দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার। তাহলেই বিষয়টির সমাধান হতে পারে। এ ছাড়া জাতিসংঘের মাধ্যমে ও কূটনৈতিক মাধ্যমে বিষয়টির জোরালো আলোচনা হলে সমাধান হতে পারে বলে আমরা মনে করি। প্রতিনিয়তই অবৈধভাবে রোহিঙ্গা আসতে শুরু করেছে। তাদের তালিকা করে রাখতে হবে।

মো. আতিকুল্লাহ

পশু হাসপাতাল রোড, গফরগাঁও।

► যেহেতু মিয়ানমারের আর মুসলিম রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কোনোই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তাই ওদের আর ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে কোনো লাভ হবে না। ঠিক এ মুহূর্তে লাখ লাখ শরণার্থীকে রক্ষার ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এই মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সমগ্র মুসলিম বিশ্বকেই এগিয়ে আসতে হবে। শরণার্থীদের ভাগাভাগি করে নিয়ে নিজ নিজ দেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলে বাংলাদেশের একার ওপর আর এ চাপ পড়বে না।

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

► আপাতত যে অবস্থা দেখছি, তাতে এভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হবে বলে মনে করি না। রোহিঙ্গারা আসতেই থাকবে, কতজনকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠাতে পারবে? দু-একজন বিদেশি কূটনীতিক আসছেন আবার দুঃখ প্রকাশ করে চলে যাচ্ছেন। এতে কিছু হবে না। তা ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি আলাপ-আলোচনায় কোনো ফল বয়ে আনবে না। একটি আন্তর্জাতিক বলয় থেকে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন মিয়ানমারের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক চাপ। তবে একটি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপের কোনো বিকল্প নেই। আর এই চাপটি ভারত ও চীনকে দিয়ে সুকৌশলে কার্য সম্পাদনের পথে এগোতে হবে বাংলাদেশকে ।

মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির

দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, চট্টগ্রাম।

► আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার। সেখানে মুসলিম রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে হত্যা করা হচ্ছে অথচ মুসলিম রাষ্ট্রগুলো বসে আছে নীরবে। হাজার হাজার মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে সবাইকে রোহিঙ্গাদের পাশে আসার জন্য আহ্বান করছি।

সাকিব আল হাসান রুবেল

কুড়িগ্রাম।

► রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কোনো সংঘাত ছাড়াই গাণিতিক প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে সব বৌদ্ধদের মিয়ানমারে বিতাড়িত করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেওয়া হোক।

মোহাম্মদ অঙ্কন

ঢাকা।

► মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার লাখ লাখ রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এটা আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়। এই ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই ধন্দে পড়ে গেছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে এই অসহায় মানুষগুলোকে আশ্রয় না দেওয়াটা অন্যায়। আবার দেশের স্বার্থ চিন্তা করলে এই রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য মারাত্মক হুমকি। তবে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মানবতা দেখানো কোনোভাবেই উচিত হবে না। দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে। রোহিঙ্গারা যাতে চতুর্দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য তাদের নাম ছবিসহ ডাটাবেজ করে ফেলতে হবে। এতে করে দুটি কাজ হবে—এরা দেশে কোনো অপকর্ম করলে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে, এ দেশের পাসপোর্ট করে বিদেশে গিয়ে অপকর্ম করতে পারবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই তালিকা কাজে লাগবে। এরই মধ্যে যারা ঢুকে পড়েছে কিংবা এখনো ঢুকছে তাদের জন্য আশ্রয় শিবির করে দিতে হবে দ্রুত। এ ক্ষেত্রে আমাদের সরকারকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। আশ্রয় শিবির করে দিলে বিদেশি সহায়তার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো যাবে। আবার রোহিঙ্গাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা যাবে। নতুবা এরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী কোনোভাবে ঢুকে পড়ল কি না, এটাও খতিয়ে দেখতে হবে। যদি এমন কোনো আশঙ্কা থাকে তবে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

শাকিল জামান

উপশহর, সিলেট।

► বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সাহায্যে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রথমেই খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রচুর শিশু এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিত করা না গেলে পানিবাহিত রোগে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। দৃষ্টি দিতে হবে থাকার জায়গার দিকে। আপাতত তাঁবু টানিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তাঁবুতে দীর্ঘদিন বাস করা সম্ভব নয়। স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসা সহায়তা এ মুহূর্তে খুব জরুরি। অনেকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের জন্য দরকার জরুরি চিকিৎসা। সীমান্ত পারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ইয়াসির আরাফাত বেলাল

গোয়ালখোলা, পত্তন, বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

► মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনায় সেখানে এখন আখেরি নিধন চলছে। প্রথমে তারা রকেট লঞ্চার মেরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, আগুন থেকে রক্ষায় পালাতে বের হওয়ার পর আক্রমণ করছে। এমন অমানবিক নিধন এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক লবিং আরো বেশি জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হবে। দৃশ্যমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের করণীয় অনেক বিব্রতকর ও জটিল আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ থেকেও রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শরণার্থী বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা থেকে থাকলে তাকে ভিত্তি করে মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে এখনই আন্তর্জাতিকভাবে শক্ত লবিংয়ের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

► রোহিঙ্গা সমস্যা জটিল থেকে জটিলতম হচ্ছে বলে মনে হয়। আপাতদৃষ্টিতে বা মানবিক দৃষ্টিতে এটি জঘন্যতম ঘটনা, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মিয়ানমার, ভারত, চীন, বাংলাদেশ সবাই এর পেছনে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের ও এ অঞ্চলের শান্তি বিনষ্টকারীচক্রের দীর্ঘমেয়াদি গোপনীয় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে বলে মনে হয়। মিয়ানমার সংখ্যালঘিষ্ঠ রোহিঙ্গায় বসবাসকারী বাঙালি ভাষাভাষী মুসলমান নিরীহ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে এবং বাংলাদেশের সন্ত্রাসী গ্রুপের সহায়তায় রোহিঙ্গায় আন্তর্জাতিক ইসলামিক সন্ত্রাসীরা অব্যাহত সংগ্রামে নিয়োজিত এমন ধারণা খবরাখবর দৃষ্টে মনে হয়। সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের সহায়তা আদায়ের কৌশলের ঢাল হিসেবে এই জনগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছে কি না তা বোঝার জন্য আরো কিছুদিন হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। তবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আঞ্চলিক শান্তির পক্ষের দেশ, আন্তর্জাতিক ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী, এ অঞ্চলের শান্তিবিনাশী আন্তর্জাতিকচক্র এবং শান্তিকামী মানুষ—এই চার মতাদর্শের টানাহেঁচড়ায় রোহিঙ্গা ইস্যু ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

► বার্মার নাম পরিবর্তন করে মিয়ানমার হলো, কিন্তু নীতির কোনো পরিবর্তন হলো না। মিয়ানমারের অতীত ইতিহাস এর সাক্ষী। সন্ত্রাস দমনের নামে মিয়ানমারে যা ঘটছে সেটা গণহত্যার শামিল। অতীতেও এ ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সমাজ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে স্রোতের মতো ঢুকছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। তুরস্কের ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র স্বচক্ষে দেখেছেন। নজর রাখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে লেখা চিঠিতে তিনি তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর বিশেষভাবে এর সমাধান নির্ভর করছে। আমাদের দেশ অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, খরা প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর নিয়মে বাঁধা। একান্ত মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ভার বহন করার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তারপর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে যাবে কেন? প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এনে দেখাতে হবে মানবিকতার প্রতি যে চরম উপেক্ষা মিয়ানমার শাসকগোষ্ঠীর। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত অং সান সু চির সন্ত্রাস দমনের নামে নিরীহ জনসাধারণকে তাদের জন্ম-জন্মান্তরের আবাসস্থল থেকে উচ্ছেদ করা কি শান্তির দৃষ্টান্ত? স্বদেশভূমি ছেড়ে পরভূমিতে আশ্রয় নিতে তাদের বাধ্য করা, নারী নির্যাতন, মানব হত্যা, দুগ্ধপোষ্য শিশুর কাদাপানিতে মৃত্যু, এর পরও কি শান্তির পুরস্কার? শরণার্থীরা আমাদের দেশে অসহায় অবস্থায় আশ্রয় নিয়ে আছে। আমাদের কোনো আচরণে কোনো শরণার্থীর যেন কোনো ক্ষতি না হয় এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। উদ্যোগী হতে হবে প্রশাসনকে। কারণ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে দেখা যায় অনেক শরণার্থীর সহায়সম্বল দুর্বৃত্ত কর্তৃক লুট হয়েছে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।

► রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশ সরকার মানবিক বিবেচনায় অনেক ঝুঁকি নিয়েছে। যা দেশটির ভবিষ্যৎ চিন্তার বিষয় হয়ে থাকল। শান্তি ও মানবতার দিক বিবেচনায় বিশ্বের বিবেকবান নেতাদের আন্তরিক হস্তক্ষেপ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহায়ক পথ হতে পারে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় মিয়ানমার সরকারের উচিত জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী নির্মূল অভিযান বন্ধ করা।

জাতিগত চিন্তা বাদ দিয়ে মানবতাপূর্ণ বিবেক নিয়ে চলতে হবে। জাতিসংঘের দায়িত্বে রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সে দেশের নাগরিকত্ব অথবা বৈধভাবে বসবাসের দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যেসব রোহিঙ্গা অত্যাচার বা নির্যাতনের কারণে পালিয়ে ভারত বা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, জাতিসংঘের দায়িত্বে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপদ জীবনযাত্রার সুব্যবস্থা করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমার সরকারকে মানবতাবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

শহিদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

► এমনিতেই বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। তার ওপর অর্থনৈতিকভাবেও যথেষ্ট দুর্বল আমরা। তাই নতুন করে রোহিঙ্গাদের ভার আর বইতে পারবে না বাংলাদেশ। এখন সীমান্তে যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা দরকার। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা তুলে ধরে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর সাহায্য চাইতে পারে বাংলাদেশ।

মো. মাসুম বিল্লাহ

গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।

► রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকার যে জুলুম করছে, তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে। জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে যেন তারা অসহায় নিরীহ রোহিঙ্গাদের হত্যা না করে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে তারা কখনোই মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। সে কারণে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।

মো. ইমন

লক্ষ্মীপুর।

► নির্যাতিত গৃৃহহীন রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দেওয়া আমাদের মানবিক দায়িত্ব। তবে আশ্রয় দেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়। পাশাপাশি মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিতে হবে যাতে তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফেরত নেয়। রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে সেখানে বসবাস করছে। অথচ তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিলেই হয়তো এটা সম্ভব হবে।

মো. মনিরুজ্জামান মনির

কাপাসিয়া, গাজীপুর।

► রোহিঙ্গাদের জন্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দেরিতে হলেও এটা দারুণ পদক্ষেপ। এখন সরকারের উচিত দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর হওয়া।

নাহিয়ান ইসলাম

ছাগলনাইয়া, ফেনী।

► মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি পাঠানো উচিত। অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে করণীয় কী তা ঠিক করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। মিয়ানমার সরকারকেও চাপ দিতে হবে যাতে তারা আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নমনীয় হয়।

মো. নুরুজ্জামান আনসারী

মুলাদী, বরিশাল।

► রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে অং সান সু চি যা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি আন্তরিক নন। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো মানে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। এটি সমাধান নয়। সেখানে অবিলম্বে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী না পাঠালে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

আবদুস সাত্তার

কাপাসিয়া, গাজীপুর।

► ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াটা বোকামি হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা উভয়ের জন্যই খারাপ ফল বয়ে আনবে। কারণ, মিয়ানমার সরকার সেটাই চাচ্ছে। যাতে করে সব রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নেয় আর রোহিঙ্গাবিহীন মিয়ানমার গড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়। আরেকটা বিষয় খুবই স্পর্শকাতর। তা হলো, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর একটা বড় রিক্রুট উৎস হচ্ছে রোহিঙ্গারা। স্বাধীন রাখাইন রাজ্যের মুলা ঝুলিয়ে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করে তারা। রামুতে বৌদ্ধদের প্রতি সহিংসতা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তাই রোহিঙ্গাদের সংকট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে। যাতে করে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

আবদুল্লাহ আল মাহমুদ

নান্দাইল, ময়মনসিংহ।

► গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্ট ও সেনাক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পর সেখানে পাল্টা সেনা অভিযানের মুখে পড়ে দেশ ছাড়তে থাকে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। জাতিসংঘের হিসাবে বুধবার পর্যন্ত এ দফায় প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। মিয়ানমারের সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত। নীরবতা ভেঙে রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধের পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু। সু চির উদ্দেশে টুটু লিখেছেন, ‘হে আমার ভগ্নি : মিয়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারণ হয়ে থাকে, তার জন্য সত্যিই বড় বেশি দাম দিতে হচ্ছে… আমরা প্রাথর্না করি, তুমি ন্যায়বিচারের পক্ষে মুখ খোলো, মানবতার পক্ষে কথা বলো, দেশের মানুষের ঐক্যের কথা বলো। আমরা প্রার্থনা করি, যাতে তুমি হস্তক্ষেপ করো। ’ সাম্প্রতিক সময়ে সেনা অভিযানের প্রশংসাও করেন সেনা শাসনে কয়েক দশক গৃহবন্দি থাকা সু চি। সেনা শাসনের অবসান ঘটলেও সেনা প্রভাব থেকে এখনো সু চিও মুক্ত নন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। অন্যদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের নিন্দা জানিয়ে এলেও এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ জাতিসংঘের নেই বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ। কাজেই জাতিসংঘকে সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার এক কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হচ্ছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুগছে বাংলাদেশ। দশকের পর দশক ধরে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভার বহন করছে প্রতিবেশী দেশটি; সেই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত দেখা দিলেই রোহিঙ্গাদের ঢল নামছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গত বছর যে সংখ্যক শরণার্থী নিয়েছে, তার চেয়ে বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কয়েক দশক ধরে রয়েছে বাংলাদেশে। এখন বাংলাদেশকে উদ্যোগী হতে হবে। আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

মিঠু মোস্তফা

দক্ষিণখান, ঢাকা।

image-id-663299

উন্নয়নের অন্তরায় দুর্নীতি

image-id-663296

আদর্শহীন রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী

image-id-662710

তিনি কি ভয় পেয়ে গেলেন

image-id-662704

সরব সবুজে নীরব কর্মী

পাঠকের মতামত...
image-id-662320

শিক্ষক এবং শিক্ষকতা

ছোট শিশুদের স্কুল দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই...
image-id-662008

স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র নিয়ে যথেষ্ট জটিলতা

পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী ও সমাজতন্ত্রী উভয়ে উপদ্রুত জাতিসত্তার...
image-id-661460

তৃতীয় ধারার জোট গঠনে সব বাধাই অরাজনৈতিক

বিশাল জনসমর্থিত দল না হলেও রাজনীতিসচেতন সাধারণ মানুষের কাছে কোনো...
image-id-661457

মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ইইউ-মার্কিন বিধি-নিষেধ

মিয়ানমারের ওপর, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বিধি-নিষেধ...
image-id-663597

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা

তিন মাস পর সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের...
image-id-663592

ফিফার বর্ষসেরা একাদশে রিয়ালের ৫, বার্সার ৩

সোমবার রাতেই ঘোষণা করা হবে বেস্ট ফিফা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীর নাম।...
image-id-663588

স্তন কেটে, ধর্ষণের পর লজ্জাস্থানে কাঠ গুঁজে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতন

আগস্ট থেকে অক্টোবর। পেরিয়ে গেছে দু’মাস। এরপরও মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিম...
image-id-663585

তারকাদের সত্য-মিথ্যা ১৩ সেক্স স্ক্যান্ডাল

হলিউড তারকাদের জীবনে ‘স্ক্যান্ডাল’ নিত্যদিনের ঘটনা। বলিউডেও এরকম স্ক্যান্ডাল নিয়ে...
© Copyright Bangladesh News24 2008 - 2017
Published by bdnews24us.com
Email: info@bdnews24us.com / domainhosting24@gmail.com