Bangladesh News24

সব

বাজারে নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে

চালের বাজারের অস্থিরতা দূর করতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বটে, তবে তা যথেষ্ট নয়। যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আরো আগেই নেওয়া দরকার ছিল।
পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের গুদামে থাকলে বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। মজুদদার, চালকল মালিকরা কারসাজি করার সুযোগ পেত না। যা-ই হোক, আড়তে, চালকলে নজরদারির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি চালের আমদানি দ্রুত বাড়াতে হবে। টেলিফোন ও ই-মেইলে পাঠকরা এসব অভিমত জানিয়েছেন

► নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। দিন দিন বাড়ছে দাম। বিশেষ করে চালের দাম এতই বেড়েছে যে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। জনগণের কষ্টকে সরকার আমলে নিচ্ছে না। বাজার তদারকির সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের বাজার তদারকির ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে। অন্যথায় বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

মো. আজিনুর রহমান লিমন

চাপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

► চালের বাজার অস্থির। ৪৬ টাকা কেজির নিচে বাজারে কোনো চাল নেই। এটা বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে মনে করি। ২০০৭-২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের সময় মোটা চালের দাম ৪০ টাকায় উঠেছিল। স্বাধীনতার পর সেটাই ছিল সর্বোচ্চ। সরকারি হিসাবে গত এক বছরে চালের দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। যা-ই হোক, ধানের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট উপকরণের দাম কমাতে হবে। সরকার যদি তেল ও সারের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমায়, তাহলে কৃষক ধানের উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী হবে। সরকারের কাছে অনুরোধ, তেল ও সারের দাম কমিয়ে কৃষককে ধানের চাষ বাড়াতে আগ্রহী করে তোলা হোক।

সাকিব আল হাসান রুবেল

বামনের চর, রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

► চালকল মালিকরা অতিরিক্ত লাভের আশায় চাল মজুদ করে সংকট সৃষ্টি করছে। সরকার স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে মজুদদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে। যারা চালের সংকটের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। চাল আমদানি করা সম্ভব হলে দাম কমানো সম্ভব হবে।

মৌসুমের শুরুতেই সরকার পর্যাপ্ত চাল মজুদ করতে পারেনি। সরকারের উচিত ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল মজুদ করা। যা-ই হোক, সরকার চালকল মালিকদের মজুদ না করে চালের দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। না কমালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। চালের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে বেসরকারি পর্যায়েও আমদানিতে সহায়তা করতে হবে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

► বর্তমানে চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লে তারা আরো বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রশাসনের এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। আর সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে চালের মূল্য স্বাভাবিক রাখা।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

► মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকারকে চাহিদা অনুযায়ী আমদানির মাধ্যমে মানসম্পন্ন চাল সরবরাহ করে বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

► দেশের বেশির ভাগ চাল ব্যবসায়ী মুসলমান। অনেকে হজ করে এসেছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলেন না। ইসলামে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে—তিন মাসের বেশি খাদ্যদ্রব্য মজুদ রাখা হারাম। তাই অস্থিতিশীল চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।

কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

মিরকাদিম পৌরসভা, মুন্সীগঞ্জ।

► চালের দাম কমিয়ে আনতে চাল আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি মজুদদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি করা। চালের বাজার এখন খুব অস্থির। হাওরে আগাম বন্যা আর বাড়তি বৃষ্টিপাতের কারণে এবার ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। এর প্রভাব এখনো রয়েছে বাজারে। সরকারের চালের মজুদও যথেষ্ট নয়। চাল আমদানি দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে বাজারে অস্থিরতা কমবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখীল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

► চালের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের চলমান মজুদবিরোধী অভিযান আলোর মুখ দেখবে বলে মনে হয় না, বরং হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সরকারের চালের মজুদ কম থাকায় এখন পুরো বাজার চালকল মালিক ও আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল। তাই তারা যদি হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে নতুন সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাই চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে কার্যকর মজুদ ব্যবস্থাপনা ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। সরকার যদি ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে, তাহলে চালকল মালিকদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে।

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

► আড়তদারদের বলা হয়েছে চালের দাম কমাতে; কিন্তু তারা সরকারের কথা মানছে না। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজারে অভিযান চালাতে হবে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

আড়তদারদের নিজস্ব কোনো দল নেই। যখন যে সরকার আসে তারা তাদের হয়েই কাজ করে। বর্তমানে আড়তদাররা কর্মচারী দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা দোকানে গিয়ে তাদের পাচ্ছে না। ফলে অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে। আড়তে চালের দাম কত হবে—এটা নির্ধারণ করে সরকার যদি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দিয়ে দেয়, তাহলে সে অনুযায়ী বাজার মনিটরিং সহজ হয়। এতে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মোবাইল কোর্টের নজরদারি বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারকেও আরো আন্তরিক হতে হবে।

মো. লুৎফুর রহমান

ঘিওর, মানিকগঞ্জ।

► চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক কার্যকর হয়নি। মজুদদারির চিন্তাধারা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। মজুদদাররা যাতে অবৈধ মজুদ গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। বর্তমানে চাল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। খাদ্যমন্ত্রী সেদিন স্বীকার করেছেন রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে চালের দাম বাড়তে পারে। মন্ত্রীর এ কথা শুনে দেশবাসী হতাশ। কারণ দেশবাসী ১৯৭৪ সালে ১০০ টাকা কেজি দরের চালের কথা ভোলেনি।

বর্তমান সরকারপ্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের এ দেশে আশ্রয় দিয়ে মানবিক কাজ করেছেন। এ জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবেও সম্মানিত হয়েছেন। আমরা আশা করি, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে তাঁর পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর হবে। এ জন্য কঠোর নির্দেশ দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই। কেবল নির্দেশ নয়, সঙ্গে সঙ্গে তা মনিটরও করতে হবে। নতুবা আগামী নির্বাচনে এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান জনগণের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার যেন কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

মো. আবদুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

► রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চালের দাম বেড়েছে বলে অনেকে মনে করছে। বাস্তবতা অবশ্য তা বলে না। অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করতেই হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম কমালেও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো বেশি দাম রাখছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত এখনো পৌঁছেনি। ভোক্তা সাধারণকে আরো কিছুদিন ভোগান্তি সইতে হবে বলে মনে হচ্ছে। চালের বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চালকল মালিকদের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে পাইকার ও ক্রেতারা। তাদের কারণেই চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছিল। সরকারের চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজার আগের অবস্থায় ফিরবে, এতে সন্দেহ নেই। ওএমএস কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করায় বেশিসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে। নিম্ন আয়ের মানুষ ওএমএস কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। আতপ চালের প্রতি তাদের আগ্রহ কম।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

► চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের বাজারে খুচরা ও পাইকারি দোকান এবং চালকলগুলোতে সরকারিভাবে নজরদারি করতে হবে। অনেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাল ও ধান মজুদ করে কৃত্রিম সংকট করেছে। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের চালের দোকান ও চালকলগুলোতে শত শত মণ চাল মজুদ করে নজিরবিহীন চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই অসাধু চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে জরুরিভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাহলে চালের দাম বহুলাংশে কমে যাবে।

মো. আতিকুল্লাহ

পশু হাসপাতাল রোড, গফরগাঁও।

► দাম বাড়ানোর পেছনে চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা অর্জনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা চাল বা ধান মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং সেই সংকটের প্রচার করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা অসৎ চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের অতি পরিচিত কৌশল। এটা প্রতিহত করার কোনো ব্যবস্থা কি নেই?

মোহাম্মদ অংকন

ঢাকা।

► বর্তমানে ৭০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে গিয়ে কারো কারো সবজি কিংবা তরকারি কিনতে হিমশিম খেতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্নবিত্ত মানুষ। সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আড়তদারদের জরিমানা করছে। তাদের মজুদ করা চাল জব্দ করছে সরকার। সরকারের উচিত এ পদক্ষেপগুলো নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া।

মাহ্ফুজ মুরাদ

চরবাঘুয়া, কাপাসিয়া,গাজীপুর।

► সরকার চাল মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এর পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেট বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সিন্ডিকেট করতে না পারে সে জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি ও অভিযানের ফলে চালের বাজার এখন অনেকটা স্থিতিশীল। সরকারের এ ব্যবস্থা যথেষ্ট বলে মনে করি।

মো. রতন

যৌথ ফ্যাব্রিকস, বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি, ঢাকা।

► চালের মূল্য কমাতে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। সরকার এখন ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রি করছে না। এ ছাড়া আড়তদারদের বলা হয়েছে চালের দাম কমাতে; কিন্তু তারা সরকারের কথা মানছে না। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজারে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। মজুদদার ও আড়তদারদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। মোটকথা সরকারি অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

► চালের আড়তদারদের সিন্ডিকেট আছে। তারা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। তাদের নিজস্ব কোনো দল নেই। যখন যে সরকার আসে তারা তাদের হয়েই কাজ করে। বর্তমানে আড়তদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে মালিকদের আড়তে পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মচারী দিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। আড়তে চালের দাম কত হবে—এটা নির্ধারণ করে সরকার যদি বাজারমূল্য স্থানীয় প্রশাসন বা জেলা প্রশাসকের কাছে দিয়ে দেয়, তাহলে সে অনুযায়ী তারা বাজার মনিটর করতে পারে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মোবাইল কোর্টের নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারকেও আরো আন্তরিক হতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

► চাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে গতিশীল করে অভিযান অব্যাহত রাখার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে চাল মজুদদারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এরই মধ্যে তারা ২১ হাজার কোটি টাকা মুনাফা লুটে নিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের গরিব, মেহনতি মানুষের ওপর। প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র মানুষের জন্য ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানাই।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

► খেটে খাওয়া মানুষের সামান্য অর্থের প্রতি যাদের ঘৃণিত লোলুপ দৃষ্টি, তারা অভিশপ্ত, দুর্নীতিবাজ। তারা জাতির শত্রু। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। তাই ওই সব অমানুষের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যবসায়ী এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করতে না পারে।

আবদুর রাজ্জাক নাছিম

কালিয়াকৈর, শেরপুর, বগুড়া।

► চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। চালের ডিলার, চালকল মালিক, আড়তদাররা যেন আর নোংরামি না করে সেদিকে সরকারকে লক্ষ রাখতে হবে। ব্যবসায়ীদের বলব, আপনারা দেশের মানুষের প্রতি একটু সদয় দৃষ্টি রাখেন। মুনাফা তো অনেক করেছেন। এবার নয়তো একটু না-ই করলেন। কারণ এবার বন্যা ও রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা অনেক সমস্যায় আছি।

শিবু প্রসাদ মজুমদার

লেক সার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

► শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি তা রক্ষা করতে পারেননি। কৃষক একই জমিতে দুটি উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করছে। উৎপাদন বেড়েছে। তার পরও চড়া দামে চাল কিনতে হচ্ছে মানুষকে। অন্যদিকে কৃষক ন্যায্য মূল্য পায় না। এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা সরকার করছে। তবে চালকল মালিক ও মজুদদারদের কারণে সফল হচ্ছে না। এ ব্যর্থতার দায় সরকার এড়াতে পারে না। চালের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। ফলে মোটা চাল ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মজুদদার ও চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সহিদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

► চালের বাজারের অস্থিরতা দূর করতে হলে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। আড়তদার ও মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। কালোবাজারির দায়ে সাজার মেয়াদ বাড়াতে হবে। মোবাইল টিমকে নিয়মিত কাজে লাগাতে হবে। ধানের মৌসুমে সরকারকে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। মজুদদারি বন্ধ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

► মজুদদারদের বিরুদ্ধে আরো আগেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। তাহলে চালের বাজার এতটা অস্থির হতো না। ব্যবসায়ীরাও কিছু কারণ দেখাচ্ছে। তারা মন্ত্রীকে বলেছে, পুলিশকে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। মানিকগঞ্জে পুলিশ চালের একেকটি ট্রাক থেকে দুই হাজার টাকা নেয়। এর প্রভাব চালের দামের ওপর পড়ে। পুলিশের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকারের চাল মজুদের পরিমাণ হতাশাজনক। সরকার যে দর নির্ধারণ করে, চালকল মালিক ও কৃষকরা সে দরে চাল দিতে উৎসাহ পায় না। গ্রহণযোগ্য মূল্যে চাল কিনে মজুদ করতে হবে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকলে দাম বাড়ত না। দেশে তিনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে। বিশেষ করে হাওরে আগাম বন্যায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। চালের দাম বাড়ার এটিও একটি কারণ। ওএমএসের আওতা আরো বাড়ানো দরকার। আতপ চাল পিঠাপুলির জন্য, ভাতের জন্য নয়। সরকারকে এদিকটিও ভেবে দেখতে হবে।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

► শুধু চালের বাজার স্থিতিশীল রাখলেই চলবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দামই স্থিতিশীল রাখতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আড়তদার-মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ী, বাসাবো, ঢাকা।

► চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। প্রশাসনের মাধ্যমে তল্লাশি অভিযান চালাতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বাজার অস্থির করার সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতকারীদের দমন করতে হবে।

মো. হুমায়ুন কবির

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, সিরাজগঞ্জ।

► সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার বেশ সচেষ্ট। এখনই প্রয়োজন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। এ ব্যাপারে সরকারকে দৃঢ় থাকতে হবে। একদিকে অনাহারি মানুষ, আরেক দিকে মজুদের পাহাড়। মজুদদাররাই বাজারের নিয়ন্ত্রক। ধান-চালের বাজারের নিয়ন্ত্রক গুটিকয়েক আড়তদার ও চালকল মালিক। তারাই বিপুল পরিমাণ ধান-চাল গুদামজাত করে। সুযোগমতো বাজারে সংকট সৃষ্টি করে। যাদের মনিটর করার কথা, তারা এদিকে তেমন নজর দেয় না। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চালকল মালিক বা আড়তদারদের কাছ থেকে মজুদের হিসাব নেন না। গুদাম বা চালকল পরিদর্শন করেন না। তাঁদের সক্রিয় হতে হবে। অসাধু আড়তদার, চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিমাইকৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।

► চালের বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। যেকোনো ধরনের চালের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজির মধ্যে রাখা উচিত ছিল। চালের মূল্য সহনীয় রাখতে মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। হাটবাজারে অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রাম-পাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

► জেলায় জেলায় চালকল মালিক ও মজুদদাররা প্রচুর ধান-চাল মজুদ করে রেখেছে। ফলে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চাল কিনতে গিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। দিনমজুরদের অবস্থা আরো খারাপ। মজুদদারদের কারসাজির কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এসব মজুদদার ও চালকল মালিকের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

image-id-663299

উন্নয়নের অন্তরায় দুর্নীতি

image-id-663296

আদর্শহীন রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী

image-id-662710

তিনি কি ভয় পেয়ে গেলেন

image-id-662704

সরব সবুজে নীরব কর্মী

পাঠকের মতামত...
image-id-662320

শিক্ষক এবং শিক্ষকতা

ছোট শিশুদের স্কুল দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই...
image-id-662008

স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র নিয়ে যথেষ্ট জটিলতা

পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী ও সমাজতন্ত্রী উভয়ে উপদ্রুত জাতিসত্তার...
image-id-661460

তৃতীয় ধারার জোট গঠনে সব বাধাই অরাজনৈতিক

বিশাল জনসমর্থিত দল না হলেও রাজনীতিসচেতন সাধারণ মানুষের কাছে কোনো...
image-id-661457

মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ইইউ-মার্কিন বিধি-নিষেধ

মিয়ানমারের ওপর, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বিধি-নিষেধ...
image-id-663597

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা

তিন মাস পর সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের...
image-id-663592

ফিফার বর্ষসেরা একাদশে রিয়ালের ৫, বার্সার ৩

সোমবার রাতেই ঘোষণা করা হবে বেস্ট ফিফা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীর নাম।...
image-id-663588

স্তন কেটে, ধর্ষণের পর লজ্জাস্থানে কাঠ গুঁজে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতন

আগস্ট থেকে অক্টোবর। পেরিয়ে গেছে দু’মাস। এরপরও মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিম...
image-id-663585

তারকাদের সত্য-মিথ্যা ১৩ সেক্স স্ক্যান্ডাল

হলিউড তারকাদের জীবনে ‘স্ক্যান্ডাল’ নিত্যদিনের ঘটনা। বলিউডেও এরকম স্ক্যান্ডাল নিয়ে...
© Copyright Bangladesh News24 2008 - 2017
Published by bdnews24us.com
Email: info@bdnews24us.com / domainhosting24@gmail.com